This is logo
প্রধান শিক্ষকের কথা

প্রধান শিক্ষকের কথা

প্রধান শিক্ষকের কথা

বিংশ শতাব্দীর শুরু দিকের কথা। গলিয়ারচর নিবাসী মৌলভী ওয়াজউদ্দীন আহমেদ অত্র এলাকায় কোরআন ও হাদীস শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে মক্তব রূপে বিদ্যাপীঠের যে চারাগাছ রোপন করেছিলেন; কালের পরিক্রমায় শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে পত্র-পল্লবে সুসজ্জিত হয়ে তা আজ সুবিশাল এক মহীরুহের ন্যায় একটি আধুনিক বিদ্যাপীঠের রূপ লাভ করেছে। সময়ের সাথে তাল রেখে এই বিদ্যাপীঠটি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হতে থাকে। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত হয়। মরহুম ডা. শামসুল হুদার উদ্যোগে উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে স্থান ও অর্থ দান করায় স্বর্গীয় বাবু সুবল চন্দ্র সাহা ও মরহুম আফতাব উদ্দিন আহমেদ এর নাম শুরু থেকেই জড়িয়ে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় গৌরীপুর সুবল-আফ্তাব উচ্চ বিদ্যালয়। হিন্দু ও মুসলিমের স্বতঃস্ফূর্ত দানে গড়ে উঠা এই বিদ্যালয় শিক্ষার আলো ছড়ানোর পাশাপাশি এই অঞ্চলের হিন্দু-মুসলিমের পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে চলছে। আজ একবিংশ শতাব্দীর দ্বারে উপনীত হয়ে বিশ্বায়নের এই যুগে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের একটি সার্বজনীন ও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি তুলে ধরা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব লাভের পরই বিষয়টি আমি অনুভব করি। বিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেই। সেই প্রকল্পেরই একটি অংশ হিসেবে ওয়েব সাইটের সূচনা করি। ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর আমরা একটি আন্তর্জাতিক মানের ওয়েব সাইট চালু করি। যার মাধ্যমে আমাদের বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তথ্য ও ছবি বিশ্বব্যপী ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ঘরে বসেই পরীক্ষার রুটিন, ফলাফল, ভর্তি ফরম পেতে থাকে। অভিভাবকরাও ঘরে বসে সন্তানের পরীক্ষার ফলাফল পেতে থাকে। গর্বের সাথেই বলতে হয় বিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট তৈরীর কাজটি করেছেন এই বিদ্যালয়েরই ২০০৩-ব্যাচের কৃতি ধন্য ছাত্র এসএম নাহিদুর রহমান। ফেসবুকে বিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি অফিসিয়াল পেইজও খোলা হয়েছে, যার লিংক ওয়েব সাইটে দেওয়া আছে। দু’টিতেই নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের নানা তথ্য সংযোজন ও হালনাগাদ করা হচ্ছে। ওয়েব সাইটি চালুর সাথে সাথেই বিদ্যালয়টি বিশ্বদরবারে আত্মপ্রকাশ লাভ করে এক নতুন মাইল ফলক স্থাপন করল। এই শুভ পথ পরিক্রমায় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব জানা-অজানা সুধীজনদের, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভালোবাসার ফসল আজকের এই গৌরীপুর সুবল-আফ্তাব উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং পরিচালনায় সর্বমহলের আন্তরিক সচেতনতা ও সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি।